বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যারি কেনের গোলবন্যা আর মাঠের বাইরের শান্ত জীবন সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়কের জীবনটা বেশ বর্ণিল। তবে তার সাফল্যের আড়ালে যে মধুর রূপকথাটি লুকিয়ে আছে, তা হলো তার স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ডের সাথে গড়ে ওঠা অটুট বন্ধন। তাদের এই প্রেমকাহিনি সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
হ্যারি কেন ও কেটি গুডল্যান্ডের পরিচয়ের শুরুটা হয়েছিল অনেক আগে, পূর্ব লন্ডনের লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলে। তখন কেনের বয়স ছিল মাত্র ১২ এবং কেটির ১১। স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর পর ২০১২ সালে তাদের বন্ধুত্ব ভালোবাসায় রূপ নেয়। মজার ব্যাপার হলো, ২০০৫ সালে ডেভিড বেকহ্যাম যখন তাদের স্কুলে এসেছিলেন, তখন তার সাথে এই খুদে জুটির তোলা একটি ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল। শৈশবের সেই বন্ধুত্বের ছবি যেন আজ তাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খ্যাতির শিখরে থেকেও হ্যারি কেন সবসময় তার গোড়া বা শিকড়কে মনে রেখেছেন। তারকা হওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনে অনেক জটিলতা এলেও, কেন সবসময় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। কারণ, তিনি তার ছোটবেলার বন্ধুকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন। কেনের ভাষায়, ‘আমি ভাগ্যবান যে আমি আমার ছোটবেলার ভালোবাসাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি, যে আমার পুরো ক্যারিয়ার খুব কাছ থেকে দেখেছে।’ কেটি গুডল্যান্ড শুধু একজন স্ত্রী বা মা নন, তিনি নিজেও একজন পেশাদার ফিটনেস কোচ। ২০১৪ সালে তিনি মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৭ সালে বাহামাসে এক রোমান্টিক পরিবেশে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয় এবং ২০১৯ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে এই দম্পতি চার সন্তানের গর্বিত পিতামাতা। আইভি, ভিভিয়েন, লুই এবং হেনরি এই চারজনকে নিয়েই তাদের সুখের সংসার। কেটির নিজের ক্যারিয়ার ও লক্ষ্যকে হ্যারি কেন সবসময়ই শ্রদ্ধা করেন। কেনের মতে, মাঠের বাইরের এই স্থিরতা এবং কেটির অনুপ্রেরণাই তাকে বিশ্ব ফুটবলের কঠিন লড়াইয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে তারকাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন ওঠে, তখন হ্যারি কেন ও কেটি গুডল্যান্ডের দীর্ঘদিনের এই পথচলা সত্যিকারের ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যখন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন মাঠের বাইরে কেটি গুডল্যান্ডের উপস্থিতিই হ্যারি কেনের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা।
হ্যারি কেনের ব্যক্তিগত জীবন বা তার ফুটবল ক্যারিয়ার সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে আমাকে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন