অন্যের একাডেমিক সনদ ও তথ্য জালিয়াতি করে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে শিক্ষকতা এবং সর্বশেষ কলেজ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. কাজল মাহমুদের বিরুদ্ধে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাথমিক তদন্তে তার কথাবার্তায় চরম অসংলগ্নতা পাওয়া গেছে, এমনকি ইংরেজি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করার দাবি করলেও শেক্সপিয়ারের একটি উপন্যাসের নামও বলতে পারেননি তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃত কাজল মাহমুদের বাড়ি কুড়িগ্রামে হলেও এসএসসির সনদে তাকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি স্কুলের ছাত্র দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রোল নম্বর বা হল পরিচিতি কার্ডের মতো মৌলিক তথ্যগুলো তার অজানা। আসল সনদের মালিক রাফসান মাহমুদ ২০০২ সালে নিজের হারানো সনদের বিষয়ে ডুপ্লিকেট সনদ তুলতে গিয়ে দেখেন যে তার সব তথ্য হুবহু ব্যবহার করে অন্য কেউ চাকরি করছেন। পরবর্তীতে আসল মালিক তার নাম পরিবর্তন করে রাফসান মাহমুদ রাখলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. কাজল মাহমুদ নামেই ১৯৯৯ সাল থেকে গাইবান্ধা, কাউনিয়া ও সবশেষ শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরি করে আসছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ কাজল মাহমুদ দাবি করেছেন যে তার সনদই আসল এবং রাফসান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তবে মাউশির রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার জানিয়েছেন, শিক্ষকের কাছে শুধু কয়েকটি সনদ ছাড়া কোনো মার্কশিট বা প্রবেশপত্র পাওয়া যায়নি এবং অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
মন্তব্য করুন