কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় মোবারক হোসেন নামে এক কুয়েত প্রবাসীর জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী প্রবাসী দীর্ঘ ১৪ বছর প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা জমি ও বসতভিটা ফিরে পেতে এবং নিজের নিরাপত্তার দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দাউদকান্দি মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মোবারক হোসেনের ভাষ্যমতে, ২০০১ সালে আত্মীয়তার সম্পর্কের সুবাদে মোশাররফ হোসেনের ওপর আস্থা রেখে দাউদকান্দি পৌরসভার পশ্চিম মাইজপাড়া এলাকায় পাঁচ শতাংশ জমি কেনার জন্য তিনি তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপর নিজ অর্থায়নে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাসও শুরু করেন। কিন্তু ২০১৭ সালে কৌশলে একটি নথিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার পর থেকে তাকে জমি হস্তান্তর না করে ঘোরানো শুরু হয়। দলিল না থাকার সুযোগে এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয় এবং বর্তমানে জমিটির মালিকানা দাবি করছেন অন্য এক ব্যক্তি।
মোবারক হোসেন আরও জানান, চলতি বছরের ২০ জুন তিনি জমির বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, মোবারক হোসেনের সাথে তার কোনো জমি সংক্রান্ত লেনদেন ছিল না। তার ভাষ্যমতে, ব্যবসার জন্য নেওয়া সাড়ে তিন লাখ টাকার বিপরীতে তিনি ২০১৭ সালে ব্যাংকের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। জমি দখলের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করে তিনি পারিবারিক বা সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রবাসী এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং তার জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। দাউদকান্দি মডেল থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন