অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করতে সক্ষম হয়েছে সফরকারী আফগানিস্তান। এই ড্রয়ের পেছনে সেদিকউল্লাহ অটলের ম্যারাথন সেঞ্চুরি কিংবা টেলএন্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তার ভূমিকা থাকলেও, সব আলোচনা এখন কেড়ে নিয়েছেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে শেষ দিকে চোটের ভান করে সময় নষ্ট করার অভিযোগে বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখ এখন এই আফগান ব্যাটারের দিকে। ধারাভাষ্যকাররাও খেলা চলাকালীন একে খোলাখুলি ‘কায়েসের ভান’ বলে ইঙ্গিত করেছেন।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সেদিকউল্লাহ অটল ৩৩২ বলে অতিমানবীয় ১১১ রান করে যখন আউট হন, তখনও শেষ হতে ২৩ ওভার বাকি ছিল। অন্যদিকে আফগানিস্তান ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়ে যায়। ঠিক সেই মোড়েই ক্রিজে থিতু হন কায়েস আহমেদ। খেলা ড্র হতে আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি থাকতে তিনি হঠাৎ বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং চোটের কথা বলে মাঠে শুয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকের সাহায্য চান। পরবর্তীতে ফিজিওর সহায়তায় উঠে দাঁড়ালেও তার খুঁড়িয়ে হাঁটার ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল এটি স্রেফ সময় কাটানোর অপচেষ্টা, যা নিয়ে মাঠে থাকা টাইগার ক্রিকেটারদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
কায়েসের এমন কান্ড ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষেই আফগান অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবের সেই বিতর্কিত ক্র্যাম্প নাটকের কথা। গুলবাদিনের মতো কায়েসও চিকিৎসার দোহাই দিয়ে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় নষ্ট করার পর স্বাভাবিকভাবেই আবার ব্যাটিংয়ে নামেন। ঘটনা চলাকালীন আফগান ধারাভাষ্যকার আহমেদ ফরহাদ ফিদাইও হেসে ফেলে মন্তব্য করেন যে, কায়েস ঠিক গুলবাদিনের স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনছেন।
এর আগে মাত্র ৭ রানে রানআউটের নিশ্চিত সুযোগ মিস করায় বাংলাদেশের জন্য আফসোস আরও বাড়ে, কারণ সেই কায়েসই পরবর্তীতে ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। এমনকি শেষ ওভারগুলোতে টাইজুল ইসলামকে ছক্কা হাঁকিয়ে আফগান শিবিরে বড় ড্রয়ের উচ্ছ্বাস এনে দেন তিনি। ১৪২ ওভারের দীর্ঘ প্রতিরোধ গড়ে আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে ম্যাচটি ড্র করতে সমর্থ হয়, যা টেস্টের শেষ বিকেলে বাংলাদেশের হাতের মুঠো থেকে নিশ্চিত এক জয় ছিনিয়ে নেয়।
মন্তব্য করুন