যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে হ্রাস পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। একই সাথে রাশিয়ার পক্ষ থেকে মার্কিন ও বৈশ্বিক বাজারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির দাম কমেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ১.৪৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৩.১৮ ডলারে নেমে আসে এবং ইউএস টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১.৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯০.৩১ ডলারে। এছাড়া আইসিই গ্যাসঅয়েল ফিউচার্স ৩ শতাংশ কমে প্রতি টন ১ হাজার ৪৩৬ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল পাঠাবে। এর পরপরই ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি আকস্মিক ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির কথা জানান। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেন যে, এই ঘোষণাগুলো সাময়িকভাবে বৈশ্বিক বাজারের সরবরাহ সংকট কিছুটা কমিয়ে এনেছে, তবে চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তেলের দাম কমার এই প্রবণতা কতটুকু দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে জ্বালানি যুদ্ধবিরতির স্বস্তি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি তেলের বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। বিশেষ করে রিয়াদ বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর হামলার ঘটনা জ্বালানি রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন হুমকি তৈরি করেছে। এ কারণে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখনও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
মন্তব্য করুন