আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় অধ্যায়ের মাধ্যমে। বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচেও দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফুটবলের এই মহাতারকা। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোল করিয়ে মাঠ ছেড়েছেন চিরচেনা বিজয়ের বেশে। তবে এবারের বিদায়টি ছিল আর দশটি ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা চোখের জল, ভালোবাসা এবং অজস্র স্মৃতির এক পরম মায়াবী পসরা।
ম্যাচ শুরুর আগে লকার রুমে নিজের পরিচিত জার্সি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের বোঝাপড়া সেরে নেন মেসি। এরপর স্তাদিও মনুমেন্তালের সবুজ মাঠে ওয়ার্মআপে নামার মাধ্যমে শুরু হয় তার শেষ আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ভিআইপি বক্সে বসে তার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন তার স্ত্রী ও পরিবার। জাতীয় সংগীতের সময় তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং চিরোকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে, যেখানে বাবা ও সন্তানদের চোখেমুখে ছিল এক মিশ্র আবেগ।
ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে প্রতিপক্ষ বেনিনের খেলোয়াড়রা এসে শ্রদ্ধা জানান এবং উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন এই জাদুকরকে। খেলার শুরুতে মাঠে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে ঠিকই জাদুকরী ছোঁয়া রাখেন মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দির করা প্রথম গোলের পর জার্সির লোগোতে চুমু এঁকে উল্লাসে মেতে ওঠেন সতীর্থরা। পরবর্তীতে নিকো পাজকে নিয়ে গোল উদযাপনের পাশাপাশি নিজে পেনাল্টি থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে স্টেডিয়ামকে মাত করে তোলেন মেসি।
খেলার শেষ বাঁশি বাজার পর শুরু হয় মূল আবেগঘন পর্ব। মনুমেন্তালের আকাশে ড্রোনের আলোয় ফুটিয়ে তোলা হয় মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের নানা সোনালী মুহূর্ত, যা মুগ্ধ হয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন খোদ মেসি নিজেই। তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনিও। হাসি, কান্না ও হূদয়ছোঁয়া অভিবাদনে সিক্ত হয়ে আর্জেন্টিনার কোটি ভক্তের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় দলকে চিরবিদায় জানান লিওনেল মেসি।
মন্তব্য করুন