হংকংয়ের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের তরুণদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরিতে হংকং সরকার ২০২২ সালে চালু করেছিল ‘টিন প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করতে পরের বছরই গঠিত হয় ‘টিন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’। বর্তমানে এই সংগঠনের হাত ধরে বহু শিক্ষার্থী তাদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সফল হচ্ছে, যার সর্বশেষ প্রমাণ পাওয়া গেছে হংকং ডিপ্লোমা অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (ডিএসই) পরীক্ষার ফলাফলে।
প্রকল্পটির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হুয়াং ইউ-টিং, চেন গুয়ানওয়েন এবং ইয়ান জিক্সুয়ান এখন এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য। গত গ্রীষ্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিএসই পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে এই তিন শিক্ষার্থী অংশ নেন তুং ওয়াহ গ্রুপ অব হসপিটালসের ‘ফাইনাল স্প্রিন্ট! কম্প্রিহেনসিভ ডিএসই প্রিপারেশন সাপোর্ট প্রোগ্রাম’-এ। পরীক্ষার ঠিক আগে ‘তুং পো’ নামক আবাসিক কেন্দ্রে থেকে মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মতে, এই অ্যাসোসিয়েশন কেবল তাদের ক্যারিয়ারের সঠিক দিশা দেখায়নি, বরং তাদের অন্তর্মুখী ও গুটিয়ে থাকা স্বভাব থেকে বের করে আত্মবিশ্বাসী ও উদ্যমী করে তুলেছে।
ইউ-টিংয়ের জীবনে এই প্রজেক্ট নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল নিষ্ক্রিয়তা থেকে প্রোঅ্যাক্টিভ বা উদ্যোগী হয়ে ওঠা। ম্যারাথন দৌড় প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে যুব কমিটির সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিজ্ঞতা তার ধৈর্য ও দৃঢ়তা বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। তুং পো-র শান্ত ও মনোরম পরিবেশে সহপাঠীদের উৎসাহ ও সমর্থনের জোরে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। জুনিয়রদের উদ্দেশে ইউ-টিংয়ের পরামর্শ, প্রজেক্টের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের আগ্রহের জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।
ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী গুয়ানওয়েন মূল ভূখণ্ডের শেনজেন ও হাইনান পরিদর্শন করে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। তুং পো-তে প্রতিদিন টানা দশ ঘণ্টারও বেশি পড়াশোনা করে এবং বন্ধুদের অকৃত্রিম সহযোগিতায় তিনি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের স্কুল অব প্রফেশনাল অ্যান্ড কন্টিনিউয়িং এডুকেশনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। জুনিয়রদের উদ্দেশে তার পরামর্শ হলো, ভুল করতে ভয় না পেয়ে যেকোনো নতুন কাজে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আরেক শিক্ষার্থী জিক্সুয়ানের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনা একসময় বেশ ঝাপসা ছিল। তবে প্রজেক্টের সুবাদে হংকং গোল্ড এক্সচেঞ্জে মূল্যবান ধাতু ব্যবসার কর্মপ্রবাহ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ ভাবনা পাল্টে দেয়। তুং পো-র নিবিড় পড়াশোনার দিনগুলোতে মাঝেমধ্যে হাল ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হলেও সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের নিরলস সহযোগিতায় তিনি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের বিজনেস স্কুলে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। নতুন কিছু ট্রাই করতে এবং নিজেদের সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করতে জুনিয়রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন