পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সেনেগালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার (৭ নভেম্বর) গভীর রাত পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে একজনকে। তবে হতাহতের এ সংখ্যা প্রাথমিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী ডাকার ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর সেন্ট-লুইসের মধ্যবর্তী কেবেমার এলাকার লুমপৌল বালিয়াড়ির কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। সমতল তলাবিশিষ্ট ‘পিরোগ’ ধরনের ছোট নৌকাটি শনিবার (৭ নভেম্বর) উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও অভিবাসী সহায়তা সংস্থা বোজা ফি-এর প্রতিষ্ঠাতা সালিউ দিউফ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার।
তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় এখনো সব নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে শনিবার উদ্ধার করা মরদেহগুলোর সবাই সেনেগালের নাগরিক বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবছর পশ্চিম আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক আটলান্টিক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এদিকে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আরেকটি নৌকা থেকে শুক্রবার ১৪২ জন অভিবাসীকে আটক করেছে সেনেগালের কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন নারী ও শিশু ছিলেন। আটক ব্যক্তিরা সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি ও নাইজেরিয়ার নাগরিক।
সেনেগাল সরকার মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে অভিবাসীবাহী নৌকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের এল হিয়েরো দ্বীপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নভেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ৩০টি নৌকায় করে সেখানে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন।
সেনেগাল, মৌরিতানিয়া ও মরক্কো উপকূলে নজরদারি বাড়ানোর ফলে পাচারকারীরা গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ ও গিনির উপকূল থেকে আরও দক্ষিণের পথ ব্যবহার করছে। এতে অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রা আরও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।