নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকে মুখোমুখি হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আজকের বৈঠকে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়া তাদের তেল খাতের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক ডিজেল কারখানা ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে পুরো বিশ্ব ভুগছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল বা ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অর্থহীন যুদ্ধে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ থামানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতেই তারা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মস্কো যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো ও খাদ্য পরিবহনে হামলা চালানো বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও পাল্টা ড্রোন ও বিমান হামলা স্থগিত রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে রাশিয়া যখন ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই নাজুক মুহূর্তে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদান, যুদ্ধ বন্ধের বাস্তবসম্মত উপায় এবং ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন