কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটছেন রাজধানী ঢাকার পানে। জীবিকার তাগিদে আসা এই বিপুল জনস্রোতের ভারে বর্তমানে পুরোপুরি নুয়ে পড়েছে ৪০০ বছরের প্রাচীন এই নগরী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ৩০৫.৪৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাস করছেন ১ কোটি ২ লাখ ৯৫ thousands-এর বেশি মানুষ। সেই হিসাবে মূল ঢাকা সিটিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে বসবাস করছেন ৩৩ হাজার ৭৫৭ জন মানুষ, যা বিশ্বমঞ্চে অন্যতম সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার চিত্র তুলে ধরে।
ঢাকামুখী এই অবিরাম অভিবাসনের ফলে নগরীর আবাসন, গণপরিবহন, সড়ক ও পয়োনিষ্কাশনসহ সার্বিক সেবাব্যবস্থার ওপর সীমাহীন ও অসহনীয় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশিষ্ট নগরবিদ ও নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, দেশে শিল্প-কারখানা, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও বিশ্বমানের হাসপাতালগুলোর সিংহভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠায় মানুষ বাধ্য হয়ে রাজধানীতে আসছেন। ঢাকার বাইরে জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও ভালো আয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করা পর্যন্ত এই ঢাকামুখী চাপ কমানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে কেবল পোশাক খাতেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যা অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের অন্যতম বড় কারণ।
রাজধানীর এই সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখা এবং শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে প্রতিটি বিভাগীয় মেট্রোপলিটন শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর। অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া কেবল আইন প্রয়োগ করে ঢাকার বস্তি গঠন ও জনসংখ্যার অনিয়ন্ত্রিত আগমন রোধ করা সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন