|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার আভাস: চ্যালেঞ্জ কাটেনি পুরোপুরি

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোলেও সামগ্রিক চাপ পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বা এমসিসিআই। সম্প্রতি প্রকাশিত এমসিসিআইয়ের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগে অনীহা, রপ্তানি খাতের স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে এর বিপরীতে সন্তোষজনক রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। নতুন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই প্রবাহ এখনো বেশ কম। তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, তীব্র জ্বালানি সংকট, নীতি কাঠামোর ধারাবাহিকতার অভাব, জমির সংকট, দুর্নীতি এবং আইনের অস্বচ্ছ প্রয়োগের কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন উদ্যোগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর বিপরীতে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। উচ্চ সুদহার ও তারল্য সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও।

রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ঘাটতি জিইয়ে রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বড় অংকের ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্রও বেশ হতাশাজনক, যেখানে গত কয়েক বছরের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার এক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রাক্কলনে বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে মিশ্র পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী তিন মাসে রপ্তানি, আমদানি ও রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আগামী দিনের জন্য মূল্যস্ফীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়ানো এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভৈরবে যুবলীগ নেতা আল-আমিন হত্যার নেপথ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব,

1

বাজেট ২০২৬-২৭: তৃণমূলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের দ

2

সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের আকামা বা রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে নতুন ও

3

চীনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান: ৬ জেনারেলসহ ১৩ শীর্ষ কর্মকর্তা ব

4

টানা বর্ষণে স্থবির ঢাকা: জলমগ্ন রাজধানীর রাজপথ ও চরম ভোগান্ত

5

ইউএফসি ৩৩০-এ ইসলাম মাখাচেভের ঐতিহাসিক জয় এবং রোমাঞ্চকর সব ফি

6

আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্

7

ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের ভবিষ্যৎবাণী

8

ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি কমাতে পারে মাদক ও মদের আস

9

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে পাকিস্তান,

10

বুলবুলের বোর্ড বিলুপ্ত: তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্

11

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের পদত্যাগ ২০২৬ | সুপ্রিম কোর্ট আপড

12

বিশ্ব ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে স্পেন: সাফল্যে

13

ত্যাগের স্বীকৃতি ও রাজপথের লড়াই: নারী আসনে আলোচনায় অ্যাডভোকে

14

চরম আকর্ষণে রাতের আকাশ: শুরু হয়েছে পার্সিড উল্কাবৃষ্টির চরম

15

গুম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিচার

16

আদ্-দ্বীনের শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্তির নির্দেশ

17

সাভারে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ১৩ নেতাকর্মী আটক

18

কাবার গিলাফের হাজার বছরের ইতিহাস

19

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থানে সরকারি বাহিনীর তীব্র হামলা

20