জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগে পদ্মা ব্যাংক পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (২৩ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারীর নামে ভুয়া ও জালিয়াতির কাগজপত্রের ভিত্তিতে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণ গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে কমিশন এই মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়। এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের তালিকায় রয়েছেন এমএইচ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মমিনুর রহমান ও মো. অজিত উল্লাহ, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও আব্দুল মোতালেব পাটোয়ারী, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক জর্জ কর্নেলিয়াস গমেজ, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. রাসেল মিয়া, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন এম আতিফ খালেদ এবং সাবেক এফএভিপি আমেনা বেগম। এছাড়া অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঁইয়া, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমদ এবং সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. কাওছার হোসেন।
দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগটি খতিয়ে দেখার জন্য কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও একজন পরিচালককে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। দুদক আইন ও বিধিমালার বিধান অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট শাখার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির বিষয়টির প্রমাণ পাওয়ার পরই এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন