শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলের পেস বোলারদের নিজেদের খেলায় আরও বেশি উন্নতি করতে হবে এবং নিজেদের মান আরও কিছুটা বাড়িয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটে নিয়মিতভাবে ১৪০ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি গতিতে বোলিং করতে পারেন এমন দুই থেকে তিনজন জেনুইন দ্রুতগতির পেসার দলে দেখতে চান এই লঙ্কান দলনেতা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসিথা ফার্নান্দো চমৎকার ধারাবাহিকতা দেখিয়ে শ্রীলঙ্কার মূল পেস বোলারের জায়গা দখল করেছেন। ১৩০ কিলোমিটার গতির আশেপাশে বল করে তিনি যেমন নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ বজায় রাখেন, তেমনই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রাখতে অন্য প্রান্তে একজন বাড়তি গতির বোলার খেলানোর কৌশল নিয়ে থাকে টিম ম্যানেজমেন্ট। আসিথার পেস সঙ্গী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে খেলে আসা লাহিরু কুমারা ৩৬টি টেস্টে ৩৬.৩৮ গড়ে ১০৬টি উইকেট শিকার করেছেন। তবে ভারতের বিপক্ষে গল টেস্টে ১০৪ রান খরচ করে মাত্র ২টি উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি ইনজুরি সমস্যা তাঁর ক্যারিয়ারের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সম্পদ ও ফিটনেস সংকট বিবেচনা করে লাহিরুকেই আসিথার সেরা বিকল্প হিসেবে দেখছেন ডি সিলভা।
তবে টেস্ট সেটআপে পেস বোলিংয়ের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ধনঞ্জয়া বলেন যে, দেশটিতে দুষ্মন্ত চামিরা, দিলশান মাদুশঙ্কা ও মাথিশা পাথিরানার মতো প্রতিভাবান পেসার থাকলেও ইনজুরি ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ব্যস্ততার কারণে টেস্ট ক্রিকেটে তাদের নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। অতীতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা মূলত স্পিন নির্ভর আক্রমণ সাজালেও ডি সিলভার নেতৃত্বে বর্তমানে টেস্ট একাদশে নিয়মিত দুজন করে পেসার খেলানো হচ্ছে। গত ১৫ বছরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার মাত্র একজন পেসার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেও ১৪ জন বিদেশি পেসার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে লঙ্কান অধিনায়ক আহ্বান জানিয়েছেন, দেশের ফাস্ট বোলাররা যদি নিজেদের খেলা সামান্য উন্নত করতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়, তবে দল হিসেবে শ্রীলঙ্কা টেস্ট ক্রিকেটে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
মন্তব্য করুন