জামালপুরে প্রায় সাড়ে নয় শ কেজি ঘোড়ার মাংস পিকআপভ্যানে করে পাচারের সময় স্থানীয় জনতা ও পুলিশের সহায়তায় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রোববার ভোরে জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি চকবাজার এলাকা থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাংসসহ তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮টি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই মাংসগুলো একটি পিকআপে করে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নরুন্দি মিরাপুর ঘাট এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করা এই পিকআপটি আটকের জন্য আগে থেকেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রস্তুত ছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত নরুন্দি চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিকআপসহ পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যদিও এই সুযোগে চক্রের আরও কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃত অপরাধীরা হলেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাঞ্চারপাড় এলাকার মো. জুয়েল, শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকার তাসির মিয়া এবং টাঙ্গাইলের শোলাকুড়ি ও চরধোবাকান্দির বাসিন্দা হুমায়ুন, শহীদ মিয়া ও আফজাল মিয়া। নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র গোপন সুত্রে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা নিয়মিত এ ধরনের অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
ঘটনার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেনের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত দোষী সাব্যস্ত করে তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি আসামিদের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়। এছাড়া জব্দকৃত প্রায় ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরবর্তীতে মাটিতে গর্ত করে সম্পূর্ণভাবে পুতে ধ্বংস করা হয় এবং অবৈধ কাজে ব্যবহৃত পিকআপটি পুলিশ হেফাজতে জব্দ করা হয়েছে। এই জঘন্য চক্রের সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন