মাগুরার চাঞ্চল্যকর আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন এবং আসামির করা আপিলের ওপর বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানি চলছে। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী এই মামলায় আইনি যুক্তি উপস্থাপন করছেন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই মামলার আসামিপক্ষের শুনানি শুরু হয়। এর আগে গত ১১ আগস্ট মাগুরার এই বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার চাঞ্চল্যকর রায়ে প্রধান আসামি ও আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। তবে একই রায়ে মামলার অপর তিন অভিযুক্ত—আছিয়ার বোনের জামাই সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছিল। বিচারিক আদালতের সেই রায়ের পর আইন অনুযায়ী মামলার যাবতীয় নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে নিজের বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও পরে ফরিদপুর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় এনে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ওই বছরের ১৩ মার্চ অবুঝ শিশুটি মারা যায়। নারী ও শিশু নির্যাতনের এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী চলতি বছরের ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন, যার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি পরিচালিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন