সংসদের বাদল অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এনইইটি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়ন এবং রামমন্দির ট্রাস্টের অনুদানে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে উত্তাল সংসদ। এই চলমান অচলাবস্থা কাটাতে বিরোধীদের সামনে এক নজিরবিহীন প্রস্তাব পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বিরোধীরা লিখিতভাবে আবেদন জানালে বুধবার দুপুর ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা সংসদে থেকে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সরকারের লুকানোর কিছু নেই এবং বিরোধীরা যে কোনো বিষয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারেন। তাকে সংসদে পাওয়া যাচ্ছে না বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করে তিনি জানান যে অধিবেশন শুরুর পর থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদ ভবনে উপস্থিত আছেন। তবে সরকারের এই লম্বা আলোচনার প্রস্তাবকে কোনো পাত্তাই দেননি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো ধরনের ‘লেকচার’ শুনতে বিরোধীরা একটুও আগ্রহী নন।
রাহুল গান্ধী আরও জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং তাদের লক্ষ্য করে গুলি বা পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের হুকুম কার ইশারায় এসেছে। যদি এই দমনপীড়নের নির্দেশ সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়ে থাকেন, তবে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, কেবল দীর্ঘ আলোচনার নাটক না করে নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে, সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু আগেই আলোচনার কথা বললেও বিরোধীরা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের সাফ কথা, সুনির্দিষ্ট ইস্যুর সন্তোষজনক উত্তর না মেলা পর্যন্ত সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলতে দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, সরকারের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার অভিনব প্রস্তাব এবং বিরোধীদের কঠোর অবস্থান অনমনীয় থাকায় ভারতীয় সংসদের বাদল অধিবেশনের অচলাবস্থা কাটওয়ার বদলে সংঘাত আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মন্তব্য করুন