ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসি নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি এক সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন। এই খবরটি নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরণের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরিকে একটি সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে হত্যার দাবি করা হয়েছে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, একটি বিশেষ অভিযানে তাংসিরিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যাতে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা সরাসরি অস্বীকার পাওয়া যায়নি।
আলিরেজা তাংসিরি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং পারস্য উপসাগরে বিদেশি শক্তির উপস্থিতির বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান ও হুঁশিয়ারি বার্তার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইসরায়েলি ও পশ্চিমা জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। যদি এই খবরটি সত্য হয়, তবে এটি ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরণের হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ছায়া যুদ্ধ এখন সরাসরি ও বড় ধরণের সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। ইরান ইতিপূর্বেও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।