ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের সাথে একটি চূড়ান্ত চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সফল ও চূড়ান্ত সমঝোতার পরেই কেবল পরিদর্শনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিদর্শনের কোনো সুযোগ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর এই কড়াকড়ি অবস্থান নতুন কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সুইজারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাথে কোনো ইরানি কর্মকর্তা বৈঠক করেননি। যদিও রাফায়েল গ্রোসি আশাবাদী যে, যেকোনোভাবেই হোক আজ হোক বা কিছুদিন পরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম নিশ্চিতভাবেই সম্পন্ন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার প্রধান মেরু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা এবং নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এই দুই বিষয়ের সংঘাতই এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসা পর্যন্ত ইরান যে পরিদর্শকদের ছাড় দিচ্ছে না, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পরিদর্শনের দাবি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো মধ্যপন্থা বের হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন