নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ছেলের বিয়েতে প্রেমিকার উপস্থিতির জেরে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় লজ্জায় ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে বরের বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এক তরুণীর বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল এবং সে অনুযায়ী বরযাত্রী কনের বাড়ি যায়। কিন্তু বরযাত্রী চলে যাওয়ার পর বেলা তিনটার দিকে বরের বাড়িতে এসে হাজির হন কুড়িগ্রামের এক তরুণী ও তার মামাতো বোন। নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করা ওই তরুণী জানান, হেলালের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা এবং পূর্বের সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তাদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। বিয়েবাড়িতে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে কনেপক্ষ বিয়ে বাতিল করে। পরবর্তীতে বরপক্ষ ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ছেলের এমন কান্ডে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া এবং বিয়ে ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বাবা সুরুজ মিয়া। গভীর রাতে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহতের স্ত্রী তাকে গাছে ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েবাড়িতে আসা দুই তরুণীকেও হেফাজতে নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন