আসন্ন পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধির একটি আধুনিক ও কঠোর খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিবেশ রক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এই খসড়ায় ঐতিহ্যবাহী কাগজের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক প্রচারণায় অভূতপূর্ব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। গত বুধবার (১০ জুন) ইসির ওয়েবসাইটে এই খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের ৫৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক মতামত চাওয়া হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের এই ভোটপ্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নতুন খসড়াটি কার্যকর হলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার ধরন আমূল বদলে যাবে।
খসড়া অনুযায়ী, এবার থেকে কোনো প্রার্থীই নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের পোস্টার লাগাতে পারবেন না, তবে পরিবেশবান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ বিস্তারিত তথ্য আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে বা প্রার্থীর চরিত্র হনন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ডিপফেক, বিকৃত চেহারা বা বানোয়াট ও বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী শোডাউন ও মোটরবাইক মিছিল নিষিদ্ধ করা হলেও ডিজিটাল প্রযুক্তি বা পচনশীল সামগ্রী দিয়ে তৈরি 'ক্যারাভান' বা ভ্রাম্যমাণ বাহনের মাধ্যমে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচারণার অভিনব সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সাথে, মাইক ব্যবহারের সময়কাল বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন, যা নির্বাচনী সহিংসতা ও পরিবেশ দূষণ কমিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন