ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দীর্ঘ ৯৬ বছরের পুরোনো ‘অভিশাপ’ ও ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজকীয় সূচনা করল মেক্সিকানরা। ১৯৩০ সালের প্রথম আসর থেকে শুরু করে এর আগে সাতবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেও কখনো জয়ের মুখ দেখেনি মেক্সিকো। তবে ঘরের মাঠে ৮৩ হাজার দর্শকের গগনবিদারী চিৎকার আর আজতেকা স্টেডিয়ামে অতীতে কখনো না হারার আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এবার আর ভুল করেননি রাউল হিমিনেজরা। তবে ম্যাচটি ফুটবলের নান্দনিকতার পাশাপাশি ছড়াল তীব্র উত্তেজনাও; যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচে মোট ৩টি লাল কার্ডের ঘটনা ঘটে, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখার এক অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন রেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই আফ্রিকান প্রতিনিধিদের ওপর চড়াও হয়ে খেলে মেক্সিকো। যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ডেই বক্সের ভেতর থেকে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের দারুণ শটে লিড নেয় স্বাগতিকেরা, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম উদ্বোধনী গোল। বিরতির পর ৫০ মিনিটে মেক্সিকান ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে প্রথম লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা আলভারাদোর পাস থেকে চোখ ধাঁধানো হেডে ব্যবধান ২-০ করেন ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ। গোল করার পর আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন এই মেক্সিকান তারকা। এরপর ৮৪ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জেওয়ানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় ‘বাফানা বাফানা’রা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিটে) মেক্সিকোর সেন্টার ব্যাক সেজার মন্তেস সরাসরি লাল কার্ড দেখলে দুই দল মিলিয়ে কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তিন-এ। তবে কার্ডের উত্তেজনা ছাপিয়ে ৯৬ বছর পর উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক জয় মেক্সিকান ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
মন্তব্য করুন