২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে গোল করে জয়সূচক ভূমিকা রেখেছেন মিকেল মেরিনো। পুরো ম্যাচজুড়ে বল পজেশনে এগিয়ে থাকলেও গোল করার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ আক্রমণভাগ বেশ বেগ পেতেছিল। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এসে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবর্সির দূরপাল্লার শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেন ল্যামেন্সের হাত ফসকে গেলে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল জালে জড়ান মেরিনো। এটি ছিল নকআউট পর্বে মেরিনোর দ্বিতীয় ম্যাচ জেতানো গোল।
পর্তুগালের বিদায়ের পর স্পেনের এই জয় স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। দলের এই করুণ বিদায়ের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস ইনস্টাগ্রামে নিজের হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই দলটির সামর্থ্য ও বোঝাপড়া নিয়ে তার অনেক প্রত্যাশা ছিল, যা অপূর্ণই রয়ে গেল। পর্তুগালের হয়ে খেলে সমর্থক ও কোচিং স্টাফদের সমর্থন দেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে, স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার এই লড়াইটি ছিল কৌশলগত দক্ষতার প্রদর্শনী। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন দল বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেললেও বক্সের ভেতর তাদের ‘প্রথাগত’ স্ট্রাইকারের অভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার অনুপস্থিতিতে বদলি গোলরক্ষক সেন ল্যামেন্সের ভুল স্পেনকে সেমিফাইনালে জায়গা করে দেয়। মিকেল মেরিনো এখন স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন বিস্ময় হয়ে উঠেছেন; নকআউট ম্যাচে পরপর দুবার জয়ী গোল করা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।
এখন সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। অভিজ্ঞ ফরাসি দলের বিপক্ষে স্পেনের এই কৌশলী ফুটবল কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ফুটবল প্রেমীরা। মিকেল মেরিনোর ওপর স্পেনের ভরসা এখন তুঙ্গে। বাবার স্মৃতিবিজড়িত গোল উদযাপনের স্টাইল নিয়ে তিনি আবারও খবরের শিরোনামে এসেছেন। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে সেমিতে ওঠা স্পেন কি এবার শিরোপার দিকে পা বাড়াবে? সেই উত্তর মিলবে আগামী ম্যাচের পারফরম্যান্সে।
মন্তব্য করুন