চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে এক অদ্ভুত ও ঐতিহাসিক লাল কার্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন। ফুটবলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্য দিয়েই ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই নিয়মে শাস্তির মুখোমুখি হলেন তিনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টন ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার মাধ্যমে আটলান্টা ইউনাইটেডের এই ফুটবলারকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
ম্যাচ চলাকালীন মাঠের উত্তেজনার মধ্যে আইএফএবির (IFAB) একদম নতুন একটি নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়েন মিগেল আলমিরন। ঘটনা ও নিয়মের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঘটনার বিবরণ: প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে তুরস্কের রাইটব্যাক মের্ত মুলদুরের সঙ্গে একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায় আলমিরনকে। বিষয়টি নজর কাড়লে ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টন সংক্ষিপ্ত ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনা করেন এবং নতুন নিয়ম ভঙ্গের দায়ে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
২. কেন এই নতুন নিয়ম? আইএফএবির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের ভেতর প্রতিপক্ষের সঙ্গে কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কথা বলতে পারবেন না, বললে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো যাবে। মূলত, মাঠে খেলোয়াড়দের বর্ণবাদী কোনো মন্তব্য আড়াল করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতেই ফুটবল সংস্থা এই কঠোর নিয়মটি এনেছে।
৩. নিয়মের প্রয়োগ ক্ষেত্র: নতুন এই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে, শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কথোপকথনের সময় খেলোয়াড়রা চাইলে স্বাভাবিকভাবে মুখ ঢাকতে পারবেন। তবে সেই কথোপকথনে যদি বিন্দুমাত্র উত্তপ্ত পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যায়, তবে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য থাকবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার গিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি ও রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মধ্যে ঘটা এক বিতর্কিত ঘটনার পরই এই নিয়মটি চালু করা হয়।
মিগেল আলমিরনের এই লাল কার্ডটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং প্যারাগুয়ে দলের জন্য কিছু নতুন পরিসংখ্যান তৈরি করেছে:
এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্যারাগুয়ে ফুটবল দলের জন্য সর্বমোট তৃতীয় লাল কার্ডের ঘটনা।
এর আগে প্যারাগুয়ের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে কার্লোস পারেদেস এবং রবার্তো আকুনিয়া লাল কার্ড দেখেছিলেন।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি ছিল সামগ্রিকভাবে সপ্তম লাল কার্ডের ঘটনা।
এই সংখ্যাটি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর (যেখানে ১০টি লাল কার্ড ছিল) যেকোনো একটি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ড।
মন্তব্য করুন