যুক্তরাজ্যের মাটিতে টানা ব্যর্থতার বৃত্তেই আটকে রইল পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে হারের পর মূল পর্বেও টানা তিন ম্যাচে হারের স্বাদ পেল তারা। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রানের এই চমৎকার জয়টি বাংলাদেশ শিবিরের জন্য এক সময়োপযোগী বুস্ট হিসেবে কাজ করবে, যা দলটিকে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের রেসে শক্তভাবে টিকিয়ে রাখল। যদিও আগামী সপ্তাহে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় টাইগ্রেসদের সামনের পথটা মোটেও সহজ নয়, তবে এই দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে জয় পেলে সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
একপর্যায়ে ১৬ ওভার শেষে ৮০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে ছিল বাংলাদেশ দল। তবে সেখান থেকে ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দেন অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার। শুরুতে ৫ বলে মাত্র ৩ রান করা স্বর্ণা শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ৩৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তাঁর এই ক্যামিওর কল্যাণে শেষ ৪ ওভারে ৪৩ রান তুলে একটি লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা স্বর্ণার এই ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বোলিং পরিকল্পনার বিষয়ে নিগার সুলতানা জানান যে, পিচে কিছুটা টার্ন ও ড্রিপ্ট থাকায় তিনি বোলারদের সঠিক লাইনে এবং উইকেটের ওপর বল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তে ৪১ রান তুললেও পরবর্তীতে স্পিনারদের বিপক্ষে রান ঘোরাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। বিশেষ করে ১২তম ওভারে সানজিদা আক্তার ৪ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নিলে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় তারা। ম্যাচের শেষ ১২ ওভারে কোনো বাউন্ডারিই মারতে পারেনি পাকিস্তান।
ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা স্বর্ণা আক্তার জানান, ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তাঁর লক্ষ্য ছিল স্কোরবোর্ডে ভালো রান যোগ করা এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পজিশনে ব্যাট করতে তিনি প্রস্তুত। অন্যদিকে দলের ফিল্ডিং ও লড়াকু মানসিকতায় খুশি হয়ে অধিনায়ক নিগার সুলতানা পুরো দলকে ১০-এ ১০ রেটিং দিয়েছেন।
পরাজয়ের পর চরম হতাশ পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা কোনো অজুহাত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি মনে করেন, ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল এবং এই ধরণের ম্যাচে সিনিয়র খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসা দরকার। ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করে তিনি বলেন যে, সমস্যা দক্ষতার নয়, বরং মানসিকতায় আরও দক্ষ হওয়া প্রয়োজন ছিল।
মন্তব্য করুন