রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা রাশেদ খান। সম্প্রতি তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, দেশের ইতিহাসে অন্যান্য দলের অনেক বড় বড় নেতাও অতীতে রাজনৈতিক কারণে দল পরিবর্তন করেছেন, তাহলে তিনি কেন বিএনপি করতে পারবেন না। শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং তার দল পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। রাশেদ খান দাবি করেন, দলত্যাগের এই সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া নয়, বরং এর পেছনে দীর্ঘ আলোচনা ছিল যা সংশ্লিষ্ট সবারই জানা।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনসহ দলটির মূলধারার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার এখনও অত্যন্ত চমৎকার ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করলেও তাদের মধ্যকার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নিজের বন্ধুদের একটি বড় অংশ এখনো ওই দলের কর্মী জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানের অনেকের সঙ্গেই তার নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ এবং রাজনৈতিক আলোচনা বজায় রয়েছে। ফলে দল ছাড়লেও আদর্শিক জায়গা থেকে কোনো বড় দূরত্ব তৈরি হয়নি।
বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে রাশেদ খান বলেন, ২০২২ সাল থেকে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তীতে দুই দল একসঙ্গে নির্বাচনি জোটও গঠন করেছে। তিনি এমন কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি যার বিরুদ্ধে তিনি অতীতে কখনো বিষোদগার করেছেন, বরং বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের যথেষ্ট আদর্শিক ও মতাদর্শিক মিল রয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। টকশো বা বিভিন্ন সামাজিক আলোচনায় অনেকে তাকে তথ্য ও যুক্তিতে হারাতে না পেরে 'নব্য বিএনপি' বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর জবাবে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতেও অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে এসেছিলেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে অনেক বড় নেতা যদি দল পরিবর্তন করতে পারেন, তবে তিনি কেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে রাজনীতি করতে পারবেন না। তিনি আক্ষেপ করে জানতে চান, তার অপরাধ কি তার মেধা, স্মৃতিশক্তি নাকি শক্তিশালী যুক্তিতর্ক। পরিশেষে রাশেদ খান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেবল গালাগাল বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করে তাকে রাজনীতি থেকে থামানো যাবে না। তাকে থামাতে হলে রাজনৈতিক প্রতারণা বন্ধ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি, অন্যথায় তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল থেকে জনগণের কথা বলে যাবেন।আমি কেন বিএনপি করতে পারব না?’ সমালোচকদের জবাবে প্রশ্ন রাশেদ খানের
মন্তব্য করুন