চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম (৪২) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বুধবার সকালে কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নুরুল আলমের ভাই নূর মোহাম্মদের দাবি, একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের যোগসাজশে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে কারাগারে আনার পর তাঁকে আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়। আজ সকালে তিনি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, কারাগারে আনার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন এবং তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের পর তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, সাতকানিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। থানায় থাকাকালীন তিনি পুরোপুরি সুস্থ ও সবল ছিলেন এবং তাঁকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এই মৃত্যুর যথাযথ তদন্ত দাবি করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে কারা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারা চত্বরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন