দীর্ঘদিন ধরে ই-সিগারেট বা ভেপিংকে প্রচলিত তামাকজাত ধূমপানের একটি ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে প্রচার করা হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় এর ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের গবেষকদের নতুন একটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা ‘কারেন্ট অনকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভেপিংয়ের বাষ্প বা অ্যারোসল মানবদেহের টিস্যু, কোষ এবং ডিএনএ-র ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেটের বাষ্পে ফরমালডিহাইড, অ্যাসিটালডিহাইড, অ্যাক্রোলিন এবং ভারী ধাতুর মতো বিষাক্ত উপাদান বিদ্যমান। এগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরির মাধ্যমে ক্যানসারের পথ প্রশস্ত করে। গবেষকদের মতে, মুখগহ্বর ও শ্বাসনালীর কোষে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে যা ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণের সাথে হুবহু মিলে যায়। সাধারণ সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর উপাদান থাকার অর্থ এই নয় যে এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিহীন—বরং এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক স্বাস্থ্যসংকট তৈরি করছে।
ভেপিং মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলে: প্রথমত, এটি শরীরের প্রাকৃতিক অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে ডিএনএ নষ্ট করে; দ্বিতীয়ত, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে; এবং তৃতীয়ত, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে ফ্লেভারযুক্ত ভেপিং পণ্যগুলো মুখের ভেতরের নরম টিস্যুতে তীব্র জ্বালাপোড়া ও কোষের ক্ষতি করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি বারবার সতর্ক করে বলেছে যে, ই-সিগারেট কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি একটি ভয়ংকর প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত তথ্যের অভাব মানেই ভেপিং নিরাপদ নয়। সুতরাং, ‘ধূমপানের চেয়ে নিরাপদ’ এই বিভ্রান্তিকর ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জনসচেতনতা বাড়ানোই এখন সময়ের দাবি। শরীরের ওপর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে।
মন্তব্য করুন