আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে আইনগুলো প্রণয়ন বা সংশোধন করেছিল, সেই আইনেই এখন দলটির বিচার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (৫ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ দেশে যে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, তার মাধ্যমে জনগণের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। টানা শাসনামলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ যে সকল অপরাধ সংগঠিত করেছে, তা ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতার আওতায় বিচারযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করেছিল এবং ২০১০ সালে তা কার্যকর করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এই আইনে সংশোধনী এনে ‘অর্গানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যোগ করা হয়, যা দলগত বিচারের পথ সুগম করেছে। এছাড়া ২০০৯ সালে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি বা সত্তা যদি অপরাধ করে, তবে সেই সত্তার বা সংগঠনের বিচারের সুযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে এই আইনের ১৮ ধারার ব্যবহার করেই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। অর্থাৎ, দল নিষিদ্ধ বা বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো দলটি নিজেরাই তৈরি করে রেখেছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ ও বাহিনীর সহায়তায় চালানো দমন-পীড়নের ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপরাধ—এই দুই ধারায় আলাদাভাবে তদন্ত চলছে। তদন্ত সংস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে এবং প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগ তাদের শাসনকালে দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে ধ্বংস করেছিল এবং তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, তার দায় এখন আইনগতভাবে তাদের ওপরই বর্তায়। নিজস্ব প্রণীত ও সংশোধিত আইনি ব্যবস্থাতেই এখন তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আওয়ামী লীগের বিচারের ক্ষেত্রে নিজস্ব আইনের প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আপনার অভিমত কী? আইনের শাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার এই দিকটি নিয়ে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন