ওয়ানডে ক্রিকেট কি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে চলেছে? দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও ফিল্ডিংয়ের বরপুত্র জন্টি রোডসের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে ক্রিকেট বিশ্বে এই আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যদিও আইসিসির ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের জৌলুস ও গুরুত্ব বরাবরের মতোই অটুট থাকবে।
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের রটারডাম ডকার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি উন্মোচন উপলক্ষে মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোডস এই শঙ্কার কথা জানান। অতীতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থানের সময় অনেকেই টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও বাস্তবে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ৫০ ওভারের ফরম্যাট নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন। তার মতে, টি-টোয়েন্টির ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের খেলা দেখার অভ্যাস পরিবর্তনের কারণে আগামী দিনগুলোতে ওয়ানডে ক্রিকেট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
জন্টি রোডস আরও বলেন, বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে দেশের হয়ে খেলার রোমাঞ্চ সব সময়ই আলাদা, ফরম্যাট সেটি টি-টোয়েন্টি হোক কিংবা ওয়ানডে। তবে অর্থহীন বা গুরুত্বহীন দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের আকর্ষণ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে এবং এই ম্যাচের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে বলেই তার বিশ্বাস। তা সত্ত্বেও ওয়ানডে ফরম্যাটকে পুরোপুরি মুছে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও কঠিন বলে মনে করেন এই প্রোটিয়া তারকা।
এদিকে আসছে ২০২৭ সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের মাটিতে বিশ্বসেরা দলগুলোকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মাটিতে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখছে দলটি। এ প্রসঙ্গে জন্টি রোডস স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগে ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ, ১৯৯৫ সালের রাগবি বিশ্বকাপ এবং ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় বড় আসর অত্যন্ত সফলভাবে আয়োজন করার গৌরব রয়েছে তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন