চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ সোমবার সকাল ১০টায়। প্রকাশিত এই ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবার পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যেখানে মোট পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এছাড়া জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীই মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন এবং তাদের জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে খাতা পুনঃনিরীক্ষণ বা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু জানিয়েছেন যে আগামীকাল মঙ্গলবার অর্থাৎ ১১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং এটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) ভিজিট করে সরাসরি নিজেদের আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন।
অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হলে প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রপডাউন তালিকা থেকে নিজের শিক্ষা বোর্ড সঠিকভাবে নির্বাচন করে 'সাবমিট' বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপরের ধাপে একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে, কারণ খাতা পুনঃনিরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল পরবর্তী সময়ে এসএমএসের মাধ্যমে এই নম্বরেই জানিয়ে দেওয়া হবে। সঠিক তথ্য দেওয়ার পর স্ক্রিনে প্রার্থীর বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষার্থী যে যে বিষয়ে খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করাতে চান, সেগুলোতে টিক দিয়ে 'ফি প্রদান করুন' বাটনে ক্লিক করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
এই পুনঃনিরীক্ষার জন্য প্রতিটি পত্রের ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকাশ, নগদ কিংবা সোনালী সেবার মতো যেকোনো জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই এই ফি পরিশোধ করা যাবে। পেমেন্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে পোর্টালের 'হেল্প' বাটনে ক্লিক করে গাইডলাইন দেখে নেওয়া যাবে। ফি পরিশোধ করা হয়ে গেলে পুনরায় আবেদনে ফিরে এসে 'জমা দিন' বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। একবার ফি জমা দিয়ে দিলে পরবর্তীতে আবেদনে আর কোনো পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকে না এবং প্রদত্ত ফি সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য। তবে ফি পরিশোধ করার আগে যদি মনে হয় কোনো বিষয়ে ভুল নির্বাচন করা হয়েছে, তবে 'মুছে ফেলুন' বাটনে ক্লিক করে তা সংশোধন করা সম্ভব। এছাড়া ফি জমা দেওয়ার পর যদি কোনো পরীক্ষার্থী নতুন কোনো বিষয় তালিকায় যুক্ত করতে চান, তবে আগের নিয়মেই কেবল মোবাইল নম্বরটি অপরিবর্তিত রেখে নতুন আবেদন করা যাবে। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ই-পোর্টাল ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
মন্তব্য করুন