চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর তার লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিল চেয়ে করা বাদীপক্ষের আবেদন সরাসরি গ্রহণ করেনি আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আবেদনটি কেবল ‘নথিভুক্ত’ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে দেওয়া লাশ উত্তোলনের পূর্বের আদেশটিই বহাল রয়েছে।
আদালতে যা ঘটেছিল: আদালতের আদেশ ঘোষণার পর প্রথমে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, পরবর্তীতে জানা যায় যে বিচারক কেবল আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। এই ঘটনা নিয়ে আদালত চত্বরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান ও বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতের এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম জানান, মামলার বর্তমান তদন্ত পর্যায়ে বাদীপক্ষের এ ধরনের আবেদন আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই আদালত তা নথিভুক্ত করেছেন।
লাশ উত্তোলন নিয়ে বিরোধ: বাদীপক্ষের আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, প্রায় ৩০ বছর আগে দাফন করা লাশ থেকে এখন কার্যকর কোনো দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া বারবার লাশ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ১৯৯৭ সালেও একবার লাশ উত্তোলনের সময় তা অতিমাত্রায় পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
মামলার প্রেক্ষাপট: ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর দীর্ঘ তিন দশক ধরে এর রহস্য উন্মোচন হয়নি। গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত তার মৃত্যুর ঘটনাকে অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। সিআইডির তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন