সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী এলাকার তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে মুক্ত রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়ে একটি লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার তরুণদের নৈতিক শিক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে গৃহীত কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চান।
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, ওই অঞ্চলের সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী জানান, স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষার প্রচার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মন্ত্রী তার উত্তরে আরও বলেন, যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে স্থানীয় আলেম, ইমাম ও খতিবদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জুমার খুতবা ও নিয়মিত সেমিনারের মাধ্যমে উগ্রবাদ ও গুজবের কুফল সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নেতাদের অংশগ্রহণে নিয়মিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ছাত্র-যুবাদের জন্য নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা নিয়মিত আয়োজিত হচ্ছে। এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও সক্রিয় সহযোগিতায় এই কার্যক্রম আরও বেগবান করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও মন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন