দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আবারও উচ্চপর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া সঠিকভাবে এগোলে আগামী সপ্তাহে কিংবা চলতি আগস্ট মাসের শেষ দিকেই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যদিও এটি ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল চালুর পর দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রত্যাশা ও আগ্রহ চরমে পৌঁছেছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর বিশাল আর্থিক প্রভাব। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্যহারে বাড়লে তা রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত করার পরামর্শ দিলেও সরকার তা পুরোপুরি স্থগিত না করে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে পে স্কেল চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, তাতে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। যেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এই সুপারিশগুলো পুনর্মূল্যায়ন করায় এখন সবার নজর মন্ত্রিসভার আগামী সিদ্ধান্তের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।
মন্তব্য করুন