সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের জনপ্রিয় টকশো ‘ঠিকানা’-তে এসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমালোচকদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং আওয়ামী লীগের আমলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অনুষ্ঠানে নিজেকে ‘লাইফ সেভিং মেশিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যাওয়ার পর তার ওপর আঘাত করা কাপুরুষতা এবং শক্তিশালী অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অতীতে যারা মুখ খুলতে পারেননি, তারাই আজ তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগার’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, কারণ ন্যায় ও প্রতিবাদের কোনো পক্ষপাত থাকতে পারে না।
টকশোতে প্রতিপক্ষের ওপর দমনপীড়ন ও মিথ্যা মামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, বিগত সরকার খারাপ ছিল বলেই জনগণ তাদের সটিয়েছে, কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে যদি আবার সেই একই কায়দায় মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা কিংবা বয়স্ক শিরীন শারমিন চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের খুনের মামলা দিয়ে হেনস্থা করা হয়, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থার ফারাক কোথায় রইল? তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আপনি যদি সেটাই আবার করেন তাহলে আওয়ামী লীগের দোষ কী ছিল?" মহাত্মা গান্ধীর ‘চোখের বদলে চোখ পুরো বিশ্বকে অন্ধ করে দেয়’ প্রবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান যে ঘৃণার পালটা ঘৃণা ছড়িয়ে সমাজকে অন্ধ করা থেকে বিরত থাকাই তার রাজনৈতিক নীতি। অতীতে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ওপর চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ করার কারণেই আজ অন্য কারো ওপর অন্যায় হলে তারও প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
মন্তব্য করুন