সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে हाल हीতে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বা ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির স্থায়িত্ব নিয়ে মিত্র দেশগুলোর দীর্ঘদিনের সন্দেহের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র নগরী মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো যৌথ প্রতিরোধ যেখানে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ঐতিহ্যগত একক নির্ভরতার দিন ফুরিয়ে আসার এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা বিকল্প খুঁজে নেওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট আঞ্চলিক সংকটে মার্কিন নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক অংশীদারদের মনে তীব্র সংশয় দানা বেঁধেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের হঠকারী সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; কারণ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঞ্চলিক বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের পর্যাপ্ত বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটনের ওপর অন্ধ নির্ভরতা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ত্রিমুখী প্রতিরক্ষা চুক্তি রাতারাতি মার্কিন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি না করলেও, এটি ওয়াশিংটনের পাশাপাশি অতিরিক্ত কৌশলগত ও নীতিগত প্রতিরোধ বলয় গড়ে তোলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা মধ্যপ্রাচ্যের পাল্টে যাওয়া শক্তির ভারসাম্যকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন