সাংবাদিক ও কলামিস্ট আহসান হাবিব বরুনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পেছনের ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরের বহুমাত্রিক গুরুত্ব রয়েছে।
সম্পর্ক পুনর্গঠনের তাগিদ বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যখন গভীর অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ‘র’ প্রধানের এই সফরকে নিছক সাধারণ কোনো সরকারি সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক প্রমাণ করে যে উভয় পক্ষই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় পুনর্বিন্যাস করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা ফ্যাক্টর ও দ্বিপক্ষীয় সংকট দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তার প্রত্যর্পণের দাবি দুই দেশের সম্পর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নজিরবিহীনভাবে সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করায় এটি স্পষ্ট হয় যে, ভারত তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৮ কোটি মানুষের একটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কোনো এক ব্যক্তির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়।
সফরের সম্ভাব্য বার্তা বিশ্লেষণে এই সফরের তিনটি মূল বার্তার কথা তুলে ধরা হয়েছে:
নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা: সীমান্ত, সন্ত্রাসবাদ, চোরাচালান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা পুনরায় সক্রিয় করা।
বাস্তবতার মূল্যায়ন: বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সরাসরি অনুধাবন করা।
ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা: শেখ হাসিনার ইস্যু বা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে ভবিষ্যৎ পথ খোঁজা।
চীন ফ্যাক্টর ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি ঢাকায় আসার আগে ‘র’ প্রধানের প্রতিনিধি দলের চীন সফরের খবর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বিশেষ বার্তা দেয়। বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে ভারত, চীন ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার যে কৌশল নিয়েছে, তাতে ভারতকে এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উপসংহার ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর হয়তো রাতারাতি কোনো বড় কূটনৈতিক পরিবর্তন এনে দেবে না, তবে এটি দিল্লির নীতিনির্ধারকদের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট করেছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কোনো এক ব্যক্তির রাজনৈতিক ভাগ্যের কাছে জিম্মি রাখা যাবে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতেই কেবল দুই প্রতিবেশীর নতুন সম্পর্কের ভিত্তি রচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন