ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় অর্ধেকই এখন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। দেশটিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই এই তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অনুষ্ঠিত একটি জ্বালানি সম্মেলনে দেশটির আন্ডার সেক্রেটারি অব এনার্জি কাইল হাউস্টভেইট জানান, বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে, যার মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শোধনাগারে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন শোধনাগারগুলো মূলত ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করার উপযোগী করেই ডিজাইন করা হয়েছে। তেল উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা দিয়ে আসছে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশই লাভবান হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বৈশ্বিক বাজারে তেমন তেল সরবরাহ করতে পারত না। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রপ্তানি উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে তেল বিক্রি থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলেও সেই অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তেল বিক্রির আয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল ও গবেষণা সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়ায় মূল বিরোধী দলকে বাইরে রাখা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন