নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রতিবেশী রবিউল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিশেষ এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঘটনার মাত্র ৩০ দিন এবং অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৯ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করা হয়েছে, যা নড়াইলের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায়দানের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শিশুটির বাবা প্রতিবেশী রবিউলের বাড়ির উঠানে গেলে রবিউল ঘর থেকে দরজা খুলে পালিয়ে যান। এরপর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদরে মোড়ানো অবস্থায় রক্তাক্ত ও অচেতন ওই শিশুকে দেখতে পান তার পরিবার। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরদিন স্থানীয়রা অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন অভিযুক্ত রবিউল।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তারিকুজ্জামান লিটু এই চাঞ্চল্যকর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ দ্রুত ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন সংগ্রহ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর গত ৬ আগস্ট আদালত তা গ্রহণ করেন এবং ৯ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় বাদীসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন, যা সমাজে এ ধরনের অপরাধ দমনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন