ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যে। সম্প্রতি হায়দরাবাদে দলীয় এক বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে ইঙ্গিত করে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বৈঠকে নীতীন নবীন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি এবং তোষণনীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও সোনিয়া গান্ধীর জন্মগত পরিচয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে দাবি করেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বের মানসিকতা ‘ইতালীয়’, যা ভারতের সাধারণ মানুষ কখনোই গ্রহণ করবে না। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি সভাপতি বলতে চেয়েছেন যে, কংগ্রেস মূলত একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল, যেখানে জাতীয়তাবাদের চেয়ে পারিবারিক স্বার্থই মুখ্য। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদের ধারায় দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।
বিজেপির এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণের পরিবর্তে বিজেপিকে তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এবং গত ১২ বছরের কেন্দ্রীয় শাসনামলের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। রেবন্ত রেড্ডি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘যদি বিজেপি সত্যিই কাজের মূল্যায়ন করতে চায়, তবে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। সেখানে গত দশ বছরের ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) এবং কেন্দ্রে বিজেপির বারো বছরের শাসনের সাথে বর্তমান কংগ্রেস সরকারের আড়াই বছরের কর্মকাণ্ডের তুলনা হোক।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী রাজ্য নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতির প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই বিতর্কগুলো সামনে আসছে। পরিবারতন্ত্র এবং দুর্নীতি ভারতের রাজনীতির চিরচেনা বিতর্ক হলেও, ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোই বেশি গুরুত্ব পাবে। দুই প্রধান দলের এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের লড়াই যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক স্লোগানের বাইরে গিয়ে মূল উন্নয়নমূলক এজেন্ডাগুলো বিতর্কের কেন্দ্রে কতটা জায়গা পায়।
মন্তব্য করুন