ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির. আলজাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত অবকাশকেন্দ্র বুর্গেনস্টকে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে. জেনারেল আসিম মুনির সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচনায় একজন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন. ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকটিকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বরফ গলানোর প্রচেষ্টায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে.
এই উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডে এসে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স. রয়টার্সের বরাত দিয়ে তাঁর মুখপাত্র এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন. শনিবার (২০ জুন) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান যে, এই আলোচনা থেকে বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননের চলমান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বড় ধরণের অগ্রগতির আশা করছেন তারা. যদিও এই আলোচনার মূল এজেন্ডা এবং সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে, সে সম্পর্কে কোনো দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি.
উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দেখে পরিস্থিতি যতটা জটিল মনে হচ্ছে, বাস্তবে লেবাননের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকেই যাচ্ছে এবং সামগ্রিক উত্তেজনাও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে. তবে এই পরিস্থিতিকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সুচারুভাবে পরিচালনা করার ওপর জোর দেন তিনি, যেন ইসরাইল এবং লেবানন— উভয় রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকতে পারে. আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই মধ্যস্থতা বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা.
মন্তব্য করুন