ইসরায়েলের রাজনীতিতে ‘সারভাইভালিস্ট’ বা টিকে থাকার কারিগর হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। চার দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচন তার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি মামলার দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় এখন তার ওপর ভর করেছে।
বহুমুখী সামরিক সংকট নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল বর্তমানে এক কঠিন উভয়সংকটে আটকা পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতির সূত্রপাত এবং হিজবুল্লাহর সাথে উত্তরের সীমান্তে সংঘাত পুরো অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। একদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযান বন্ধের কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে ইসরায়েলি জনগণের বড় একটি অংশের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জেদ—এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও ব্যর্থতার দায় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর গোয়েন্দা ও কৌশলগত ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনে তার অস্বীকৃতি জনগণের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলা তার ভাবমূর্তিকে চরম সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন অক্টোবর নির্বাচন শুধু ইসরায়েলের নতুন সরকারই নির্ধারণ করবে না, এটি নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের যবনিকাপাতও হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এবং ইসরায়েলি সমাজের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলে নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন, নাকি তার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: ইসরায়েলি রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিষয়ক প্রতিবেদন।
মন্তব্য করুন