আজ সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৩। মৃদু এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়, যা ঢাকা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভোরে হঠাৎ এমন ভূকম্পনে অনেক মানুষ ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদীকে কেন্দ্র করে ছোট ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল দেশ, যার উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদীর মাধবদী। সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে তিন জেলায় ১০ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছিল ছয় শতাধিক মানুষ এবং ঢাকার বহু ভবনে ফাটল বা হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরপরের দিনগুলোতেও নরসিংদীর পলাশ, ঘোড়াশাল ও শিবপুর এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক ছোট মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
বারবার এমন ভূকম্পন হওয়ার পেছনে বড় কোনো অশনিসংকেত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন জোরালো তাগিদ দিচ্ছেন ভূতত্ত্ববিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ফল্ট লাইনে প্রচুর পরিমাণে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে। যার ফলশ্রুতিতে গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেট অঞ্চলে প্রায়ই ছোটোখাটো ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে। ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট-টেকনাফ অঞ্চলের সক্রিয়তার কারণে এই শক্তি যেকোনো সময় বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরিকল্পিত ঢাকা মহানগরীর বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমাতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণই একমাত্র কার্যকর উপায়। বারবার কেঁপে ওঠা এই ভূমিতল ও বিশেষজ্ঞদের এমন সতর্কবার্তা ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য দ্রুত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন