খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে এবার বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা ২৬ একর জমি নিলামে তোলার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এই সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৯৯৩ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দীর্ঘদিনের আটকে থাকা বিশাল অংকের ঋণ উদ্ধারে রূপালী ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিলামের তালিকায় থাকা সম্পত্তির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের তারাব ও যাত্রামুরা মৌজায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪১ একর এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৮ দশমিক ৫৫ একর জমি রয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ঋণের বিপরীতে এই স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিগুলো বন্ধক রাখা ছিল। বর্তমানে ঋণগ্রহীতা হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডকে দায়ী করা হচ্ছে এবং সুদ ও অন্যান্য খরচসহ পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে ‘যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায়’ সম্পত্তিগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতাদের আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে দরপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এই নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদের মতে, এটি একটি আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে বড় অংকের ঋণের বিপরীতে এমন নিলামে সাধারণ ক্রেতা পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। এর আগেও বিভিন্ন সময় সালমান এফ রহমানের প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ক্রেতার অভাবে তা সফল হয়নি। অন্যদিকে, বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের মতে, কোম্পানি চালু না থাকলে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করা দুরূহ।
উল্লেখ্য যে, বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। এর আগে জনতা ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও গ্রুপটির বিপুল অংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে। সালমান এফ রহমান বর্তমানে কারাগারে থাকা অবস্থায় রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম পদক্ষেপটি সরকার ও আর্থিক খাতের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। নিলামের চূড়ান্ত সফলতার দিকে এখন নজর রাখছেন ব্যাংক ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা, কারণ এই উদ্যোগের ওপরই নির্ভর করছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির বড় অংকের তহবিল পুনরুদ্ধারের ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন