ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজায় শোকের পাশাপাশি দেখা গেছে চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। লাখ লাখ শোকাহত মানুষের সমাগমে জনসমুদ্রের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার দাবি। রবিবার (৫ জুলাই) এই জানাজা কেন্দ্রিক জনসমাবেশ থেকে এই নতুন উত্তেজনার খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
জানাজায় অংশগ্রহণকারী জিবা নাদেরি নামক এক ৪২ বছর বয়সী নার্স জানান, ইরানিরা এখন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। প্রতিশোধের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের নেতার নির্দেশের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে এবং আমরা যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রদর্শিত বিভিন্ন পোস্টার ও দেয়ালে লেখা স্লোগানে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার ডাক দেওয়া হয়।
জানাজার আগে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা কবি মোহাম্মদ রাসৌলি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান তোলেন। লাউডস্পিকারে বক্তব্য রাখার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনও বেঁচে আছে কেন? তার এই উত্তপ্ত প্রশ্নের জবাবে জনতা তুমুল উল্লাস ও শোরগোলের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইরান বর্তমানে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে। হামাসসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী এই যুদ্ধাবস্থায় ইরানের জয়কে মুসলিম উম্মাহর জয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন