বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। ব্যাংক এবং ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী এই সুদের হার বর্তমানে বছরে প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে, যা অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) জন্য মুনাফা অর্জন অসম্ভব করে তুলছে। ব্যবসায়ীরা উৎপাদন বাড়ানো বা নতুন যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের জন্য মূলধন ধার করতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ মূলধনের খরচ তাদের লাভের অংশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভিয়েতনাম অ্যাসোসিয়েশন অফ স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস-এর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের প্রধান জনাব ত্রান ভান হিয়েন জানান, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার ক্ষেত্রে এই সুদের হার আরও বেশি হতে পারে, যা তাদের ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে।
ব্যবসায়ীরা শুধু উচ্চ সুদের হার নিয়ে চিন্তিত নন, বরং মূলধন প্রাপ্তির পথও ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ সুদেও ঋণ পাচ্ছে না, ফলে অর্থনীতিতে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী মূলধনের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। ব্যাংকিং খাত বর্তমানে তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং আমানতের সুদের হার বাড়ার ফলে ব্যাংকগুলো সহজে ঋণের সুদের হার কমাতে পারছে না। এদিকে, এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে খেলাপি ঋণের ওপর। ব্যাংকগুলো বকেয়া ঋণ আদায়ের জন্য নিয়মিত জামানতি সম্পদ নিলামে তুলছে, যা ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও মন্দ ঋণের ভয়াবহতাকে প্রতিফলিত করছে। ব্যাংক এবং ব্যবসার মধ্যে এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদী পুঁজি বাজারের উন্নয়ন এবং বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকারমূলক ঋণ নীতির প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন