থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জিডি করার সুযোগ পাচ্ছেন নাগরিকরা। মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যেকোনো সময় অভিযোগ দাখিল, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ এবং জিডির সার্টিফাইড ডিজিটাল কপি সংগ্রহ করা যাচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াতের খরচ কমার পাশাপাশি নাগরিকদের পুলিশি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে অনলাইন জিডি সেবা চালুর পর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পুলিশের ২৪টি থানায়ও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়। এর ফলে বর্তমানে দেশের সব থানায় অনলাইন জিডি সেবার আওতা তৈরি হয়েছে।
অনলাইন জিডির সুবিধা পাওয়া নাগরিকদের একজন রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা মাহিরা নূর। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদ হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিডি সম্পন্ন করেন। এতে তাকে থানায় যেতে হয়নি এবং বাড়তি যাতায়াত খরচ বা ভোগান্তির মুখেও পড়তে হয়নি।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। তিনি জানান, মানিব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার পর ক্রেডিট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে জিডির প্রয়োজন হয়। অফিসে বসেই কয়েক মিনিটের মধ্যে অনলাইনে জিডি সম্পন্ন করেন তিনি। পরে অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং জিডির কপিও সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
অনলাইন জিডি সেবা সম্পর্কে এডিশনাল আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, অনলাইন জিডি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময় পুলিশের কাছে সরাসরি অভিযোগ পাঠাতে পারছেন। হারানো বা প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ অনলাইনে দাখিল করা যাচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াতের খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নাগরিকদের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, ডিএমপির ৫০টি থানায় সরাসরি জিডি গ্রহণের পাশাপাশি অনলাইনেও জিডি নেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের কর্মব্যস্ততা ও যাতায়াতের ভোগান্তি বিবেচনায় বাসা, অফিস কিংবা সুবিধাজনক যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিডি করার সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনলাইনে জিডি করতে প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, সচল মোবাইল নম্বর এবং লাইভ ছবি প্রয়োজন হবে। এরপর গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘অনলাইন জিডি’ অ্যাপ ডাউনলোড করে প্রথমবার নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পরবর্তী সময়ে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করা যাবে। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মোবাইলে পাঠানো ওটিপিও দিতে হবে।
অ্যাপে প্রবেশের পর অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট জেলা ও থানা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ঘটনার স্থান, সময় এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ থাকলে ছবি বা প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপিও সংযুক্ত করা যাবে। সব তথ্য পূরণ শেষে আবেদনটি সাবমিট করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকেই জিডির সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে। একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুযোগও রয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জিডির ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে সাধারণ ডায়েরি করতে থানায় সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রেই কমে এসেছে।
মন্তব্য করুন