পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরবঙ্গের ৪ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানির তীব্র চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৬ হাজারের বেশি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুর্গত এলাকায় আশ্রয় ও ত্রাণ সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের নদী ভাঙন ও বন্যার বিষয়ে সচেতন থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন