সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন ঢাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। অন্যদিকে, কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভস্থ গ্যাস নির্গত হয়ে লাগা আগুনের পরিস্থিতি বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় ভূগর্ভস্থ গ্যাস নির্গমনে অগ্নিকাণ্ডের পর এবং কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিতে যাচ্ছে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু করে টানা চার দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ ঘাটতি বিরাজ করবে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
৪ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ কমবে: পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বেলা ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন সংক্রান্ত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে একলাফে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। এর ফলে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনসহ সব স্তরের গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
উখিয়ায় গভীর নলকূপের গ্যাসে আগুন ও পেট্রোবাংলার পদক্ষেপ: এদিকে গত ২৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় গভীর নলকূপ খননকালে ভূগর্ভ থেকে অতিরিক্ত চাপে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যায়। প্রায় ১ হাজার ফুট গভীরে খনন কাজের সময় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার পর বাপেক্সের দুইজন অভিজ্ঞ ভূতত্ত্ববিদকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে আপাতত উন্মুক্তভাবে গ্যাস নির্গমনের সুযোগ দেওয়া উত্তম। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বভাবিকভাবেই এই আগুনের প্রচ্ছন্ন প্রবাহ কমে আসতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ে গ্যাস প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে বিকল্প অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সংযোগ বন্ধের চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান: বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে গ্যাসের সুনির্দিষ্ট ও সম্ভাব্য মজুদ নিরূপণে ভূতাত্ত্বিক ও দ্বিমাত্রিক (২ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স। আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় জনগণকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।