রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের ৭ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবারের এই অভিযানে মোট ১২ জনকে আটক করা হলেও প্রমাণের ভিত্তিতে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজধানীর আগারগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এলাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি ও হয়রানি বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে দালাল চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করার পর অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এসআরবি-২-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ সাতজনকে কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনকে ১০ দিন, দুজনকে ৭ দিন এবং চারজনকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে আটক বাকি ৫ জনের বিরুদ্ধে দালালি বা জালিয়াতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জালিয়াতির কৌশল ও অভিযোগের ধরণ: এসআরবি-২-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একটি সুসংগঠিত দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিচ্ছিল। পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ, জালিয়াতির মাধ্যমে সত্যায়ন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ত্রুটি সংশোধন কিংবা ভুয়া নথি তৈরির লোভ দেখিয়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। এ ছাড়া ‘জরুরি ভিত্তিতে বা দ্রুত সময়ের মধ্যে’ পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও গ্রাহকদের ব্ল্যাকমেল করা হতো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে দালাল চক্রটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিত অথবা জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিত, যা পরবর্তীতে পাসপোর্ট কাউন্টারে জমা দিতে গিয়ে চরম বিপাকে ও পুলিশি হয়রানির শিকার হতেন সাধারণ গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের ক্রমাগত লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সোমবার এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
ভবিষ্যৎ অভিযানের হুঁশিয়ারি: এসআরবি-২ সূত্রে জানানো হয়েছে, আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা দালাল চক্রের মূলোৎপাটন করতে এবং সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে এ ধরনের দালালবিরোধী ঝটিকা অভিযান ও নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।