নবম পে স্কেলের বেতন নির্ধারণে নানা ত্রুটি ও গ্রেড সাজানোর গরমিলের কারণে সিনিয়রদের টপকে জুনিয়রদের বেশি বেতন পাওয়ার অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই লাখ সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকের প্রথম ধাপের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, নতুন কাঠামোতে গ্রেড সাজাতে গিয়ে বড় ধরনের গরমিল তৈরি হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ১২তম গ্রেডের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা থাকলেও, বেতন সমন্বয়ের প্যাঁচালো নিয়মে দেখা যাচ্ছে—১১তম গ্রেডের একজন কর্মী যেখানে ৩৭ হাজার টাকা পাবেন, সেখানে ১২তম গ্রেডের এক জুনিয়র কর্মী পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ, নিয়মবহির্ভূতভাবে জুনিয়র কর্মী ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারীরা এই ত্রুটিপূর্ণ নিয়ম অবিলম্বে গভীর পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পর ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয় বেতন নির্ধারণের কাজ। কিন্তু গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণে ভুলত্রুটির পাশাপাশি ‘আইবাস++’ সফটওয়্যারের নানা কারিগরি বিপত্তিতে হিসাব মেলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সংশ্লিষ্টদের। ১৪ লাখ কর্মীর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ১২ লাখের বেতন চূড়ান্ত হলেও বাকি ২ লাখ কর্মীর হিসাব এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আকুতি জানিয়েও মঙ্গলবার পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা মেলেনি।
এদিকে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, যাঁদের বেতন নতুন নিয়মে এখনো সাজানো সম্ভব হয়নি, তাঁরা আপাতত পুরোনো নিয়মেই বেতন পাবেন। বকেয়া টাকা কোথাও মারা যাবে না, বরং জটিলতা নিরসনের পর তা পরিশোধ করা হবে। তবে ১ নভেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এই জটিলতার জট খোলা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয় ও অসন্তোষ বিরাজ করছে চাকরিজীবীদের মধ্যে